সকল নিস্পাপ শিশু যেন নিরাপদে থাকে

ইমাম হাসান
অফিসার ইনচার্জ
হঠ্যাৎ ফোন আসে স্যার ৬ (ছয়) বছরের একটা মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে । দ্রুত পৌছে যায় ঘটনাস্থলে, দেখি একটা শিশু বাচ্চার নিতর দেহ পড়ে আছে ।
শুনি তার নাম আফরা। নাম শুনে আরো বেশি কস্ট পেলাম। কারণ আমার মেয়ের নাম আফরা। তখন সাথে সাথে নিজের মেয়ের ছবি ভেসে আসলো চোখে। নিজের মেয়ে মনে করে কঠিন চ্যালেন্জে নেমে পড়লাম ।
মহান আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়ে সার্কেল স্যার ও আমার থানার সকল অফিসার সহ শুরু করি অভিযান। ঘটনাস্থলে একে একে চলে আসে র্যাব , সিআইডি , পিবিআই সহ সরকারের সকল এজেন্সীর কর্মকর্তা গন।
আমি এলাকার সম্মানীত চেয়ারম্যান জনাব মিলন ভাই ও এলাকা বাসী সহ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে থাকি। অবিরাম অভিযান ও নির্ঘুম রাত কেটে পেয়ে সে পাষন্ড কে যে আফরা কে হত্যা করে। তাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করি।

একপর্যায়ে সে স্বীকার করে এবং বর্ননা দেয় কি করেছে এবং কিভাবে সে আফরা কে হত্যা করেছে। তার সে নিষ্ঠুর কথা শুনে আর চোখে জল ধরে রাখতে পারিনি। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করি কেন এমন কাজ করলি। সে বলে স্যার আমি ভুল করে করে ফেলেছি।
সে বর্ননা দেয় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি করেছে । পরে তাকে পুনরায় আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় । তখন সে নিজে দেখিয়ে দেয় কিভাবে কি করেছে। হতবাগ হলাম এমন পাষন্ড লোক সমাজে আছে। নির্মম জগন্য অপরাধ করেছে সে। সে তার অপরাধ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে। তার অপরাধ যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
পুলিশের চাকুরী করি অনেক বছর ধরে অনেক ঘটনার অভিজ্ঞতা । অভিজ্ঞতার কোন শেষ নাই । কিন্তু এমন কিছু দেখার বা অভিজ্ঞতার আশা করিনি।
ভালো থেকো ওপারে আফরা । আফরার পরিবারের জন্য অনেক অনেক সমবেদনা।
সকল নিস্পাপ শিশু যেন নিরাপদে থাকে। অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না। ইনশাআল্লাহ




