কে পাবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এর ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ

ফেনীর সংবাদ ডেক্স-
দ্বিতীয় এলিজাবেথ শুধু ইংল্যান্ডের রানিই ছিলেন না। ছিলেন একজন ধনী নারীও। কানাডাসহ ১৪টি কমনওয়েলথ রাজ্যের প্রধান ছিলেন তিনি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব বলছে, দীর্ঘ ৭০ বছরের শাসনামলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সঞ্চয়ে রানি রেখে গেছেন ৫০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ। সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তার ছেলেই হবেন এসব সম্পদের মালিক। ব্রিটিশ নিউজ মিডিয়া আউটলেট সান-এর হিসাবে, রানির সম্পদের নেটওয়ার্কের পরিমাণ আনুমানিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সানডে টাইমস-এর ধনী তালিকায় রানির সম্পদের পরিমাণ ৪২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্রিটিশ রাজপরিবারের মূল্যমান ধরা হচ্ছে ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া : রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার মা রানি এলিজাবেথের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন প্রায় ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই উত্তরাধিকারের মধ্যে পেইন্টিং, গহনা এবং ঘোড়ার মতো সম্পদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সামগ্রিকভাবে রানি ঐতিহ্যগত বার্ষিক বেতন পাননি।
সার্বভৌম অনুদান (আয়ের প্রধান উৎস) : রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো তিনিও সার্বভৌম অনুদান নামে একটি করদাতা তহবিলের মাধ্যমে আয় করেছিলেন, যার পরিমাণ ছিল ২০২১-২০২২ সালে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রানি পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করে বাকিংহাম প্যালেস। সার্বভৌম অনুদান শুরু হয়েছিল রাজা তৃতীয় জর্জের সময়ে, যেখানে নিজের এবং রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক অর্থ সংসদ থেকে সরবরাহের চুক্তি হয়েছিল।
রানি কীভাবে বেতন পান : প্রথাগত কোনো মাসিক বা বার্ষিক বেতন পেতেন না রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। একটি করদাতা তহবিলের মাধ্যমে সংসদ থেকে আসা বার্ষিক সার্বভৌম অনুদান দেওয়া হয় রাজপরিবারকে। সেটিকেই ধরা হয় রানির বেতন।
রাজপরিবারের সম্পত্তি ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার : ফোর্বস অনুসারে ২০২১ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের মোট ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পত্তি (রিয়েল এস্টেট) রয়েছে, যা কখনো বিক্রি করা যাবে না। এর মধ্যে ক্রাউন এস্টেট ১৯.৫ বিলিয়ন, বাকিংহাম প্যালেস ৪.৯ বিলিয়ন, কর্নওয়ালের ডাচি ১.৩ বিলিয়ন, ল্যাংকস্টারের ডাচি ৭৪৮ মিলিয়ন, কেনসিংটন প্যালেস ৬৩০, স্কটল্যান্ডের ক্রাউন এস্টেট ৫৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
রানির ব্যক্তিগত সম্পদ : বিজনেস ইনসাইডারের মতে, রানি ব্যক্তিগত সম্পদে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জমা করেছেন। মূলত তার বিনিয়োগ, শিল্প সংগ্রহ, গয়না এবং রিয়েল এস্টেট হোল্ডিংয়ের কারণে স্যান্ড্রিংহাম হাউজ এবং বালমোরাল ক্যাসেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন যেহেতু তিনি মারা গেছেন, তার অধিকাংশ ব্যক্তিগত সম্পদ প্রিন্স চার্লসের কাছে চলে যাবে, যখন তিনি সিংহাসনে বসবেন।



