জেলা সংবাদদাগনভূঞাবিশেষ সংবাদ

দাগনভূঞায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত-

দাগনভূঞা প্রতিনিধিঃ

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যুই সোসাইটির উদ্যোগে ব্রিটিশ কাউন্সিল পিফরডি প্রকল্পের কারিগরী সহায়তায় সিলোনীয়া বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকাল এগারটায় একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনলাইন ঝুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার বলেন- সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে সৃষ্ট বর্জ্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভাবে অপসারণ করা অত্যাবশ্যক। এজন্য বাজারের ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা একান্ত জরুরী। পঁচনশীল বর্জ্যের সাথে অপচনশীল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিথিন বর্জ্য একত্রিত না করার তাগিদ দেন।

সিলোনীয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন বলেন- বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বাজারে প্রবেশ করে। যত্রতত্র ফেলা ময়লায় পরিবেশ দূষণ ছড়াচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা আছে। আবার বাজার কিছু দুষ্ট চক্র ব্যবসায়ী স্কুলের সামনে বাউন্ডারির ভিতরে রাতের বেলা ময়লা ফেলে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করছে।

বাজারের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন- বাজারের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন ব্যবসায়ী সমিতির একার পক্ষে সম্ভব নয় এরজন্য সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদ এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসলে ফলপ্রসূ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইউপি সদস্য মাইন উদ্দিন শামীম বলেন- সিলোনীয়া বাজারের পাশে প্রবাহমান ছোট ফেনী নদী বাজারের বর্জ্যের জন্য হুমকীর সম্মুখীন। বাজারের নানান ধরনের বর্জ্য কিছু দুষ্ট চক্র ব্যবসায়ী নদীতে ফেলে, এটি বন্ধ করতে হবে। দাগনভূঞা উপজেলার মধ্যে সিলোনীয়া একটি বৃহৎ বাজার। দুরদুরান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম হয় এখানে। মাছ বাজার, তরকারী বাজার, কসাইখানা, মুদিমনোহারিসহ ছোট ও মাঝারী মানের বিভিন্ন কলকারখানা এখানে বিদ্যমান। তিনি গুরুত্ব বিবেচনায় সিলোনীয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করনে সরকারের উধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ব্যবসায়ী সদস্য ফিরোজখান বলেন- ব্যবসায়ীদের ব্যক্তি উদ্যোগ ও সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচার প্রচারণা বাড়াতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন- বাজার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে ক্রেতা বিক্রেতা সবার জন্যই মঙ্গল। কিন্তু ব্যবসায়ী সমিতি ব্যবসায়ীদের চাঁদায় নিরাপত্তা কর্মী ও রাত্রীকালীন সড়ক বাতির খরচ চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। তবে যুই সোসাইটির এই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। বাজারে নির্ধারিত কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ময়লা সংগ্রহ ও ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট জায়গা নাই। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করা হলে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ইমাম, ছাত্র, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ৪২ জন অংশ গ্রহন করেন।

সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন যুই সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক কিশান মোশাররফ। নির্বাচিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাপ গ্রুপ লিডার নুরুল আলম আজাদ। মূল প্রবন্ধে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান আইনের আওতায় আনয়ন করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করণের কথা বলা হয়। একই সাথে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ও ঠোংগা ইত্যাদি সহজলভ্য করা এবং এগুলো ব্যবহারে জনগণকে উদ্ভুদ্ধ করনে প্রচার প্রচারনা জোরদার করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button