
কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি ক্ষেত্রে আরো বেশি সফলতা অর্জনে ব্যতিক্রমি আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সরিষা মাঠে কৃষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনের মিলনমেলা ।এটি আয়োজন করেন ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) ফেনী সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাশিমপুরের বিস্তীর্ণ সরিষা মাঠে মিলনমেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান।

এসময় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী, কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. একরাম উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ কে শহীদ উল্লাহ খোন্দকার, জোসনা আরা জুসি, স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন, স্থানীয় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক লিটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, আরিফুল আমিন রিজভী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন চলতি মৌসুমে ফেনীতে বেড়েছে সরিষার আবাদ। কৃষকরা আগের থেকে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন সরিষার আবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দেশের মানুষকে অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই অনুরোধে কৃষকরা সাড়া দিয়েছেন। সরকারের প্রণোদনা ও সহায়তার কারণে সরিষার উৎপাদন বাড়ছে।
মিলনমেলার আয়োজক ও ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, মেলায় স্থানীয় কৃষক ও তাদের সন্তানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও জেলার সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের অতিথি রাখা হয়েছে। এতে করে সবার মাঝে কৃষির প্রতি প্রেম তৈরি হবে। উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সমৃদ্ধ হবে জনপদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত বছর এ জেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিল ১৮০৬ হেক্টর। চলতি বছর চাষ হয়েছে ৩৪৯৪ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে আবাদের পরিমাণ বেড়েছে ১১৪৭ হেক্টর। চলতি বছরের চাষাবাদের হিসাবে ৪৬৭০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রণব চন্দ্র মজুমদার জানান, চলতি মৌসুমে তার তিনটি কৃষি ব্লকে ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এসব জমিতে অন্তত ৯০ মেট্রিক টন উৎপাদিত সরিষা থেকে ৩০ হাজার লিটার তেল ও ৬০ হাজার লিটার খৈল পাওয়া যাবে। কৃষকদের মধ্য থেকে তালিকাভুক্ত ৪০০ জন কৃষককে সরকারিভাবে প্রণোদনার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরে আমার আওতায় তিনটি ব্লকে ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়, যা থেকে অন্তত ৩০ মেট্রিক টন উৎপাদিত সরিষা থেকে ১০ হাজার লিটার তেল ও ২০ হাজার লিটার খৈল পাওয়া গেছে।




